মুক্তাগাছায় পল্লীবিদ্যুতের অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়নের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি
মোঃ মাহমুদুল হাসানঃ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়নের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলছে। রবিবার সকাল থেকে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সদর দপ্তরের অভ্যন্তরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যানারে এ কর্মবিরতি কার্যক্রম শুরু হয়।
এ সময় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা, শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশে বৈষম্যের স্থান নাই; বৈষম্য নিপাত যাক, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মুক্তি পাকসহ বিভিন্ন স্লোগানে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে চলমান বৈষম্য দূরীকরণের দাবী জানান।
এসময় আন্দোলনকারীরা বলেন, বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সাপ্তাহিত ছুটি শুক্র ও শনিবার দুই দিন থাকলেও পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কেবল শুক্রবার একদিন রাখা এবং বৃহস্পতিবার হাফ অফিসের কথা থাকলেও পুরো সময় অফিস করার বদ্যবাদকতার যে বৈষম্য তা দূর করতে হবে। বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকলের জন্য সমান বিদ্যুৎ বিল (৪০০ ইউনিট) দেয়া হলেও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম, এজিএমদের জন্য ৪০০ ইউনিট আর সুপারভাইজার ও কর্মচারীদের ২০০ ইউনিট দেয়া হয় যা চরম বৈষম্যমূলক।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদমর্যাদা (সরকার ঘোষিত গ্রেডিং ১-২০) ৬ মাস পিছিয়ে পে-স্কেল ও ৫% বিশেষ প্রণোদনা প্রদান, এপিও বোনাস সমহারে না দেওয়া, লাইনম্যানদের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও কাজের জন্য প্রয়োজনীয় লাইনম্যান এবং বিলিং সহকারী পদায়ন না করা, যথাসময়ে পদন্নোতি না করা লাইনক্রু লেভেল-১ ও মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার (চুক্তিভিত্তিক), বিলিং সহকারী (কানামুনা) চাকরি নিয়মিত না করা, স্মারকলিপিতে অংশগ্রহণ করায় ভোলা পবিস-এর এজিএম (আইটি) ও এজিএম (অর্থ)-কে সাময়িক বরখাস্ত, সিরাজগঞ্জ পবিস-২ এর ডিজিএম (কারিগরি) ও এজিএম (আইটি)-কে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে সংযুক্ত করায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের শোষণ, নির্যাতন, নিপীড়ন বন্ধ ও আধুনিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে বাপবিবো ও পবিস-এ অভিন্ন চাকুরীবিধি বাস্তবায়নের জন্য এ কর্মবিরতি শুরু করা হয়েছে।
দাবিসমূহ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-০১, মুক্তাগাছায় কর্মরত সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ কর্মবিরতি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকাল ব্যাপী চলবে বলে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন। দাবী আদায় না হলে পর্যায়ক্রমে এই আন্দোলন আরও কঠোর আন্দোলনে রূপ নিবে বলে কর্মসূচি থেকে ঘোষণা দেয়া হয়।