মুক্তাগাছায় মসজিদ কমিটি ও ফান্ড নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে আহত ৭
মুক্তাগাছায় মসজিদ কমিটি ও ফান্ড নিয়ে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে ৭ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার বাদ জুম্মা উপজেলার জয়রামপুর জামে মসজিদ মাঠে। এ ঘটনায় মুক্তাগাছা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে জানাযায়, মুক্তাগাছা বড়গ্রাম ইউনিয়নের জয়রামপুর জামে মসজিদ কমিটি নিয়ে দীর্ঘ দিনের বিরোধ চলে আসছিল। গত শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) মসজিদের টাকা পয়সার হিসাব নিয়ে আলোচনার পর প্রতিপক্ষের সাথে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে ৭ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, রাসেল (৩২), মোঃ সোহেল (৩২), হোরাইরা (১০), বকুল (৩৪), দুলাল মিয়া (৪৫), আ: হাকিম (৫৫), আ: হালিম (৫২)।
সূত্রমতে, জয়রামপুর জামে মসজিদের সাবেক সভাপতি হাফেজ আলী অভিযোগ করেন বিবাদী ১। মোঃ মোক্তার হোসেন (৪০), ২। মোঃ মানিক মিয়া (৩৮), ৩। মোঃ ছোটন মিয়া (৩৩), ৪। মোঃ লিটন মিয়া (২৮), ৫। মোঃ নিকসন (২৫), ৬। মোঃ মুরাদ মিয়া (২৫), ৭। মোঃ সফিক (৪৫), ৮। মোঃ সোহেল (৪০), ৯। মোঃ বিল্লাল হোসেন (৫০), ১০। মোঃ মিনহাজ (২৫) দের সাথে মসজিদ ফান্ডের টাকা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরধরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শুক্রবার বাদ জুম্মা মুসল্লিদের উপস্থিতিতে ফান্ডের টাকা পয়সার হিসাব হয়। এক পর্যায়ে তারা অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে পরে গালিগালাজের প্রতিবাদ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার রড, বাঁশ ও কাঠের লাঠি দিয়ে এলোপাথারিভাবে বাইরাইয়া গুরুত্বর আহত করে। পরে ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন দৌড়ে আসলে বিবাদীগণ বাদীদের প্রাণনাশের হুমকি ধামকি দিয়ে চলে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে মসজিদের ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান জানান, মসজিদের টাকা পয়সা হিসাব নিকাশ নিয়ে আলোচনার পর এক পর্যায়ে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করলে উপস্থিত মুসল্লিরা বিনা কারনে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে প্রতিবাদ করে। এতেই উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের রূপ নেয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোঃ রাসেল জানান, আলোচনার এক পর্যায়ে আমি বলি তোমরাই ক্যাশিয়ার বানাইছ ক্যাশিয়ারের কাছে কেন টাকা পয়সা জমা কর না। এক বছর আগে খলা থেকে প্রজেক্টের টাকা তুলছ সবাই কষ্ট করে গিয়ে টাকা তুলছে এখন পর্যন্ত ঐ হিসাবটাও দিছনা। আস্তে আস্তে মানুষের মসজিদ উন্নত হয় আর আমাদের মসজিদ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে বললেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মসজিদের ভিতরেই মারামারি শুরু করতে চায় তখন মুসল্লিরা বাঁধা দেয়। পরে বেড়িয়ে যাওয়ার সময় ১০/১২ জন দলবেধে আমার উপর আক্রমণ করে মারতে থাকে। আমি দেখতে পাই আমার মাথা ও নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে।
এ ব্যাপারে আব্দুল হাকিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাবেজ আলী মসজিদের ৪৯ শতাংশ জমি ক্রয় করে বায়নাপত্র ও জমি রেজিষ্ট্রীর টাকা তার কাছে গচ্ছিত রাখা হয়। তার কাছে গচ্ছিত বায়নাপত্র টাকা চাইলে সে তালবাহান করতে থাকে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাবেজ আলীর লোকজন আমাদের লোকজনের উপর হামলা করে ৩ জনকে আহত করে।
এ ব্যাপারে মুক্তাগাছার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফারুক আহমেদ বলেন, জয়রামপুর জামে মসজিদের কমিটি ও ফান্ড নিয়ে মারামারি হয়েছে। এতে উভয়পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।